মুরাদ হোসেন খুলনা বিভাগীয় প্রতিনিধি।। সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের খুলনা রেঞ্জের একটি কূপে এখন চলছে গোলপাতা আহরণ মৌসুম। নির্বিঘে গোলপাতা কাটতে পেরে খুশি বাওয়ালীরা। বন বিভাগের কঠোর নিরাপত্তা আর কড়াকড়িতে প্রথম ট্রিপের গোলপাতা কাটতে এখন অধিক ব্যস্ত বাওয়ালীরা। এক সময়ে উপকূলে গোলপাতার ঘরের প্রচলন থাকায় এর চাহিদাও ছিল বেশ। সময়ের আবর্তনে দৃশ্যপট বদলে গেছে। এখন টিনের ঘরের প্রচলন বাড়ায় পড়ে গেছে গোলপাতার বাজার। গোলপাতা দিয়ে ঘর নির্মাণে আগ্রহ কম উপকূলবাসীর। জানা যায়, সুন্দরবন থেকে বনজদ্রব্য আহরণ সঙ্কুচিত এবং চাহিদা কমে যাওয়ায় গোলপাতা সংগ্রহে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে বাওয়ালীরা। গোলপাতা আহরণের ভরা মৌসুমে এবার বাওয়ালীদের বিএলসি (অনুমতি) দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর ছিল বন বিভাগ।
ফলে আহরণ মৌসুমের একটু দেরিতে সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের খুলনা রেঞ্জের কূপ (জোন) থেকে ব্যবসায়ীরা পারমিট গ্রহণ করে সুন্দরবন অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে এর ওপর নির্ভরশীল শ্রমজীবী মানুষেরা। তবে বনের ওপর থেকে চাপ কমাতে বনজদ্রব্য আহরণ সঙ্কুচিত করার সিদ্ধান্ত আগেই নিয়েছে বন বিভাগ। খুলনা রেঞ্জের রেঞ্জ সহযোগী শাহানশা নওশাদ জানান, সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের খুলনা রেঞ্জের ১টি কূপে গোলপাতা সংগ্রহ করার জন্য ১৪২ টি বিএলসির অনুকুলে বাওয়ালীরা প্রথম দফায় ৭০ হাজার ৬ শ ৪৪ মণ গোলপাতা সংগ্রহ করার অনুমতি (পারমিট) নিয়েছে। গত ২৬ জানুয়ারি থেকে এ সকল বিএলসির অনুকুলে পারমিট দেওয়া শুরু হয়েছে এবং ৩০ মার্চ পর্যন্ত গোলপাতা আহরণ চলবে।
খুলনা গোলপাতা কুপ কর্মকর্তা মোঃ আনিসু জ্জামান বলেন, বাওয়ালীরা যাতে নিবিঘ্নে গোলপাতা কাটতে পারে তার জন্য নিয়মিত কুপের পক্ষে থেকে সার্বক্ষনিক তদারকি করা হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ না থাকায় গোলপাতা আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নাও হতে পারে বলে বাওয়ালীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে। খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মোঃ আবু সালেহ বলেন, নির্বিঘ্নে যাতে বাওয়ালীরা গোলপাতা কাটতে পারে তার জন্য বন বিভাগ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা। ইতিমধ্যে বাওয়ালীরা সুন্দরবনে প্রবেশ করে নিয়ম মাফিক গোলপাতা আহরণ করছে।
কয়রা উপজেলার বাওয়ালী নূর ইসলাম সানা জানান, ২৫ বছর ধরে তিনি সুন্দরবন থেকে গোলপাতা সংগ্রহ করে আসছেন। কিন্তু বন বিভাগের এত কড়াকড়ি আগে কখনও দেখেনি। কয়রার খুচরা গোলপাতা ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম বলেন, এখন আগের মতো আর গোলপাতার চাহিদা নেই। বিক্রি কম হওয়ায় অনেক খুচরা বিক্রেতার গত বছরের গোলপাতা এখনও রয়ে গেছে। তবে অনেক বাওয়ালী বলে, গোলপাতায় যে পরিমাণ টাকা লগ্নি করা হয়, সেই তুলনায় ব্যবসা নেই। সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোঃ বশিরুল আল-মামুন জানান, সুন্দরবনের ওপর থেকে চাপ কমানোর জন্য বনজদ্রব্য আহরণ সীমিত করা হয়েছে। তিনি প্রতিটি স্টেশনে ও কূপে নিয়মিত তদারকি করে বিএলসি নবায়ন করার অনুমতি দিয়েছেন। পাশাপাশি কূপে নৌকার মিল রেখে গোলপাতা কাটার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।